টার্গেট মেজর তানজিম | সামীটোরিয়াল #IAmMajorTanjim

 



ফেসবুকে স্ক্রিনশট আর ইমোশনাল পোস্টের আড়ালে অনেক সময় যে কতটা ভয়ংকর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকে, মেজর তানজিম রহমানের বিরুদ্ধে চলা বর্তমান অপপ্রচারটি তার এক ধ্রুপদী উদাহরণ। গত কয়েকদিন ধরে তথাকথিত 'এক্সপোজ' সংস্কৃতির নামে একজন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে কুৎসিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে, আমাদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে তার নেপথ্যে উঠে এসেছে এক জালিয়াতিচক্র এবং রাজনৈতিক সুবিধাবাদী চরিত্রের অন্ধকার দিক।


অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া তথাকথিত চ্যাট হিস্ট্রিগুলো পুরোপুরি ভুয়া। অভিযুক্ত নারী ত্রয়ী নিজেই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মেজর তানজিমের ছবি ও পদবি ব্যবহার করে একাধিক 'ক্লোন' আইডি তৈরি করেছেন। এরপর নিজের আইডি থেকে সেই ফেইক আইডিতে মেসেজ পাঠিয়ে নিজেই উত্তর দিয়েছেন, যাকে ডিজিটাল ফরেনসিকের ভাষায় বলা হয় 'সেলফ-চ্যাটিং'। এই সাজানো চিত্রনাট্য দিয়েই তিনি জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।


অনুসন্ধানকালে আমার সাথে যোগাযোগ করেন 'অমিত' (ছদ্মনাম) নামক এক ভুক্তভোগী। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ত্রয়ী তার সাথে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। অদ্ভুত বিষয় হলো, সেই উত্তাল সময়ে ত্রয়ী বারবার অমিতের সাথে নির্জনে দেখা করার জন্য চাপ দিতেন। অমিতের সন্দেহ হয় যে, এটি আসলে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার 'হানি ট্র্যাপ' বা কাউকে ফাঁসানোর ফাঁদ হতে পারে।


অমিত আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। ত্রয়ী নিজেই দম্ভ করে বলতেন যে, মেট্রোরেলে অগ্নিকাণ্ডের পর ফ্যাসিস্ট মাফিয়া শেখ হাসিনা যখন টিস্যু চেপে নাকে ধরে মায়াকান্না করছিলেন, তখন তার পাশে থাকা নারীটি ত্রয়ীর আপন খালা। অর্থাৎ, ক্ষমতার পট পরিবর্তনের আগে তিনি কোন বলয়ের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। ৫ই আগস্টের পর ভোল পাল্টে তিনি এখন 'বিপ্লবী' সাজলেও তার মূল কাজ রয়ে গেছে আগের মতোই, অন্যের ক্ষতি করা এবং ব্ল্যাকমেইল করা।


এই প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে যখন ত্রয়ীর সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং তার দাবির সপক্ষে প্রমাণ চাওয়া হয়, তখন তিনি কোনো যৌক্তিক উত্তর দিতে পারেননি। উল্টো তিনি অত্যন্ত উগ্র ও আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন। একজন প্রকৃত ভিকটিম যেখানে সহমর্মিতা ও তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন, সেখানে ত্রয়ীর এই আক্রোশ প্রমাণ করে যে তার হাতে কোনো সত্য নেই। তিনি কেবল ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা মেটাতে এই নাটক সাজিয়েছেন।


মেজর তানজিমের স্ত্রী, যিনি এই ঝড়ের মধ্যেও পাহাড়ের মতো অটল আছেন, তিনি আমাদের জানান, এই নারী (ত্রয়ী) দীর্ঘ ৩ বছর ধরে তাদের পারিবারিক জীবন বিষিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তানজিমের স্ত্রী তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছেন যে, ত্রয়ী কেবল তানজিম নয়, বরং পরিচিত সার্কেলের প্রায় সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ইনবক্স করে এই নোংরামি ছড়াচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "একজন সুস্থ মস্তিষ্কের নারী কি কখনো এভাবে অন্যের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে কারো চরিত্রহনন করতে পারে?"


ত্রয়ী নিজেকে যেভাবে ‘ভিকটিম’ বা ‘অবলা নারী’ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করছেন, তার নিজের ডিজিটাল প্রোফাইল বলছে ভিন্ন কথা। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার নিজের শেয়ার করা আপত্তিকর ছবি, খোলামেলা ভিডিও এবং কুরুচিপূর্ণ স্টোরিগুলোই বলে দেয় তার জীবনধারা কতটা প্রশ্নবিদ্ধ। যে নারী নিজের সম্মান নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পণ্য করেন, তার মুখে ‘পরকীয়া’র বুলি আসলে একটি সস্তা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।


সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো এই প্রচারণার সময়কাল। ২৫শে ফেব্রুয়ারি, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের শোকাবহ দিনে যখন সেনাবাহিনী ও তাদের পরিবারের প্রতি মানুষের আবেগ তুঙ্গে, ঠিক সেই দিনে 'ইয়াদিদ ইসলাম' নামের একটি মাত্র ৩ জন বন্ধুর ফেইক আইডি থেকে এই পোস্টটি ভাইরাল করা হয়। এটি পরিষ্কারভাবে একটি 'ডিজিটাল লিঞ্চিং' এর চেষ্টা, যাতে জনরোষকে পুঁজি করে একজন সৎ কর্মকর্তার ক্যারিয়ার ধ্বংস করা যায়।


বগুড়া জেলার বাসিন্দা ত্রয়ীর পারিবারিক ও পেশাগত পরিচয় বিশ্লেষণ করলে এক প্রভাবশালী ও বৈচিত্র্যময় চিত্র ফুটে ওঠে, যা তিনি দীর্ঘকাল ধরে ব্ল্যাকমেইল ও প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহার করে আসছেন। এস এম ফজলুল হক ও কামরুন নাহারের কন্যা ত্রয়ীর ভাই এস এম জুহায়ের আনজুম বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির একজন সাবেক ক্যাডেট (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ - বর্তমান) এবং নৌবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডে ১৯ এপ্রিল ২০২৩ থেকে বর্তমান অবধি 'ডিজেল ইঞ্জিন আর্টিফিসার' হিসেবে কর্মরত আছেন, ভাইয়ের এই সামরিক সংশ্লিষ্টতাকেই মূলত তিনি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। ত্রয়ীর নিজের কর্মজীবনও নানা খাতে বিস্তৃত; তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে অ্যাডভান্স ন্যাচারাল কেয়ারে এবং ১ অক্টোবর ২০২৪ থেকে রাইজন অটিস্টিক অ্যান্ড ডিবেবিলিটি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন, পাশাপাশি ২৫ নভেম্বর ২০২৪ থেকে একটি বিজনেস গ্রুপের সিইও এবং ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে একমি ল্যাবরেটরিজে টেরিটরি সেলস ম্যানেজার হিসেবে যুক্ত আছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ থেকে তিনি বাংলালিংক ডিজিটালে ভিজিটর হিসেবে যুক্ত হন, এর আগে ১ বছর দার্জিলিং টি গার্ডেনের ডিস্ট্রিবিউটর (৬ জুলাই ২০২৩ - ৬ জুলাই ২০২৪) হিসেবেও কাজ করেছেন। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী খালার পরিচয় এবং পরিবারের এই শক্ত অবস্থানকে পুঁজি করেই তিনি একজন নিষ্ঠাবান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ ডিজিটাল জালিয়াতির জাল বুনেছেন।


নথিপত্র বলছে, এই নারী (ত্রয়ী) ২০২২ সালেও একই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। তখন তিনি ক্যান্টনমেন্টের গেটে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন এবং সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিজের দোষ স্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে আসেন। ৩ বছর পর আবারও সেই একই নাটক কেন? কারণ, মেজর তানজিম তার ব্যক্তিগত জীবনে সুখী, তার একটি সুন্দর সংসার ও সন্তান রয়েছে। এই সুখ সহ্য করতে না পেরে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ওই নারী পুনরায় এই সাইবার ক্রাইমের পথ বেছে নিয়েছেন।


একজন নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল জালিয়াতির যে নোংরা খেলা শুরু হয়েছে, তার পর্দা উন্মোচন করা এখন সময়ের দাবি। সাংবাদিকতার নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা যখন এই 'অপারেশন ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন'-এর গভীরে পৌঁছালাম, তখন বেরিয়ে এলো এক ভয়াবহ এবং কুরুচিপূর্ণ জালিয়াতির চিত্র। মেজর তানজিমের বিরুদ্ধে আনা পরকীয়ার গল্পটি কেবল সাজানোই নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ 'ম্যানুফ্যাকচারড ক্রাইম'। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া তথাকথিত চ্যাট হিস্ট্রিগুলো আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ত্রয়ী নামের এই নারী নিজেই একাধিক 'বট' এবং 'ফেক আইডি' খুলে নিজের সাথে নিজে কথা বলে সেই স্ক্রিনশটগুলোকে প্রমাণ হিসেবে হাজির করেছেন। এটি কোনো আবেগতাড়িত অভিযোগ নয়, এটি একজন সৎ অফিসারের ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য ঠান্ডা মাথায় করা একটি ডিজিটাল কিলিং মিশন।


সত্য যখন জুতো পরে তৈরি হচ্ছে, মিথ্যা ততক্ষণে অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে ফেলেছে। কিন্তু দিনশেষে দেয়ালের লেখাটা স্পষ্ট, ত্রয়ী কোনো ভিকটিম নন, তিনি একজন দক্ষ ডিজিটাল জালিয়াতিবাজ। নিজের তৈরি করা জালে তিনি নিজেই আটকা পড়েছেন। একজন নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল জালিয়াতির যে নোংরা খেলা শুরু হয়েছে, তার পর্দা উন্মোচন করা এখন সময়ের দাবি। সাংবাদিকতার নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা যখন এই 'অপারেশন ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন'-এর গভীরে পৌঁছালাম, তখন বেরিয়ে এলো এক ভয়াবহ এবং কুরুচিপূর্ণ জালিয়াতির চিত্র। মেজর তানজিমের বিরুদ্ধে আনা পরকীয়ার গল্পটি কেবল সাজানোই নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ 'ম্যানুফ্যাকচারড ক্রাইম'।


এটি কোনো আবেগতাড়িত অভিযোগ নয়, এটি একজন সৎ অফিসারের ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য ঠান্ডা মাথায় করা একটি ডিজিটাল কিলিং মিশন।


মেজর তানজিম একজন নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক অফিসার। তার নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ নেই। ত্রয়ীর মতো একজন প্রযুক্তিগতভাবে 'নির্বোধ' অথচ মানসিকভাবে 'কুটিল' নারী যখন নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে ডিজিটাল জালিয়াতির আশ্রয় নেন, তখন সমাজকে সচেতন হতে হবে। স্ক্রিনশট মানেই সত্য নয়, বিশেষ করে যখন তার নির্মাতা একজন প্রমাণিত সুবিধাবাদী ও জালিয়াতিবাজ।

Post a Comment

0 Comments